প্রাইভেট টিচারের কাছে একান্ত নিভৃতে আপনার প্রাপ্তবয়স্ক বোন/কন্যাকে সোপর্দ করার আগে ভাবুন প্লিজ!

 আপনার প্রাপ্তবয়স্ক বোন/কন্যাকে কি কোন প্রাইভেট টিচারের কাছে একান্ত নিভৃতে কথিত পাঠদানের নামে সোপর্দ করে নিশ্চিন্ত আছেন? তবে গল্পটি আপনার জন্য।   

“মাশফি সুমাইয়ার বাড়ি পাকুন্দিয়া উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামে। তার বাবার নাম শামীম আহমেদ। বাড়িতে থেকেই কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা করতেন তিনি। ওই কলেজে গণিত বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন সুমাইয়া। ২০১৭ সালে উপজেলার কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওই বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন গণিতের এক শিক্ষক রাসেল আহমেদের কাছে প্রাইভেট পড়তো সুমাইয়া। রাসেল আহমেদ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।

প্রাইভেট পড়ার সময় ওই শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুমাইয়ার।  বিয়ের প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় এক পর্যায়ে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তারা।  কিন্তু কিছুদিন আগে রাসেল গোপনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেন।  এই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ৭টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মাশফি সুমাইয়া। 



আত্মহত্যা করার আগে সুমাইয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পরে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ছাত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করায় আমার প্রিয় শিক্ষক। আর সেই ভাগ্যবান ছাত্রী আমি নিজে। আল্লাহ আমায় মাফ করো।’

‘দেশে এমন শিক্ষক আরও কোন ছাত্রীর জীবনে না আসুক। সবাই আমায় মাফ করবেন, সদ্য এসএসসি পাস করা একটা মেয়ে বিয়ের মানে-এসব জানতামই না। ভদ্র স্যারকে বিশ্বাস করতাম, যা বলতো তাই শোনতাম। যাই হোক, ভাল থাক সে….বিদায়’।
” 

[তথ্যসূত্র : কালের কণ্ঠ, ২২ আগস্ট, ২০২০]
 
প্রথমেই আমি শিক্ষক নামক এই দুর্বৃত্তের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চাইবো। কিন্তু আমার মতে  লম্পট শিক্ষকের চেয়েও এই ইনসিডেন্টের পেছনে ভিক্টিম মাশফির পরিবারের দায় অত্যাধিক। তারা তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দূষিত সমাজের শ্বাপদসংকুল পরিবেশের মধ্যে যেখানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় আগলে রাখবে সেখানে তারা এক 'পুরুষ শিক্ষক' এর নিকট নিভৃতে প্রাইভেট পড়তে পাঠিয়ে নির্ভার থেকেছে! যার ফলে এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছে তাদের সন্তান।  আর ভিক্টিম জানাচ্ছে 'বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তিন বছর ধরে 'ধর্ষণ' করেছে...'

আচ্ছা সম্মতিক্রমে 'সঙ্গম/সহবাস' কীভাবে 'ধর্ষণ' হয়? মেয়ে কি খুকি? 'সঙ্গম' মানে না বুঝেই তাতে লিপ্ত হচ্ছে? ধর্ষণের সংজ্ঞার কোথাও তো সম্মতিক্রমে সঙ্গমের কথা উল্লেখ নেই। এটাকে 'ধর্ষণ' বলে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে নিছক সিম্প্যাথি সিক করার জন্য।

আচ্ছা একটা মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যদি মেয়েটার সাথে সঙ্গম করে ছেলে সরে যায়, তখন মেয়েটা চাইলে ছেলেটার নামে 'ধর্ষণ' মামলা দিতে পারে। কিন্তু কোন মেয়ে যদি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার পর অন্য কাউকে বিয়ে করে সেক্ষেত্রে এটার জন্য কি ছেলে আইনের আশ্রয় নিয়ে কোন মামলা করার সুযোগ আছে?

আবার বলতে যাইয়েন না, ছেলেরা ধর্ষিত হয়না। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডক্টর সিওভান উইয়ারের ফোর্সড-টু-পেনিট্রেড (নারীকর্তৃক পুরুষ ধর্ষণ) নিয়ে করা একটি গবেষণায় প্রমাণিত, নারীকর্তৃক পুরুষ ধর্ষন অসম্ভব নয়, বরং অসম্ভব মনে করাটাই একটা 'মিথ' বা 'কাল্পনিক উপকথা'।

প্লিজ কেউ আমাকে আবার 'পার্ভার্ট' কিংবা 'পটেনশিয়াল রেপিস্ট' বলে গালি দিয়েন না।

Comments

Popular posts from this blog

Midnight Massacre in Dhaka by Security Forces of Bangladesh [WARNING GRAPHIC VIOLENCE]

অনলাইনে নারীবাদী এক্টিভিস্ট আর অফলাইনে ধর্ষকের সহযোগী!

শাহবাগী ফ্যাসিবাদী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সংগঠন গুলোর তালিকা