তাসলিমা নাসরিন এবং বেগম রোকেয়া : একই মুদ্রার এপিট ওপিঠ
তাসলিমা নাসরিন এবং বেগম রোকেয়া : একই মুদ্রার এপিট ওপিঠ

‘কেহ
বলিতে পারেন যে, ‘তুমি সামাজিক কথা কহিতে গিয়া ধর্ম লইয়া টানাটানি কর
কেন?’ তদুত্তরে বলিতে হইবে যে, ‘ধর্ম’ শেষে আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় হইতে
দৃঢ়তর করিয়াছে, ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমনীর উপর প্রভূত্ব করিতেছেন।
তাই ‘ধর্ম’ লইয়া টানাটানি করিতে বাধ্য হইলাম।’ (আমাদের অবনতি, রোকেয়া,
কাদির, ১৯৭৩, পৃ. ১১-১৩)
"আমাদের
অতিপ্রিয় অলঙ্কারগুলি- এগুলি দাসত্বের নিদর্শন বিশেষ। ...কারাগারে বন্দীগণ
পায়ে লৌহনির্মিত বেড়ি পরে, আমরা স্বর্ণরৌপ্যের বেড়ি অর্থাৎ ‘মল’ পরি।
উহাদের হাত-কড়ি, লৌহ-নির্মিত, আমাদের হাতকড়ি স্বর্ণ বা রৌপ্য-নির্মিত চুড়ি।
কুকুরের গলে যে গলবন্ধ (dog-collar) দেখি উহারই অনুকরণে বোধ হয় আমাদের
জড়োয়া চিক নির্মিত হইয়াছে। ...গো-স্বামী বলদের নাসিকা বিদ্ধ করিয়া
‘নাকাদড়ি’ পরায়, এদেশে আমাদের স্বামী আমাদের ‘নোলক’ পরাইয়াছেন!! ঐ ‘নোলক’
হইতেছে ‘স্বামীর’ অস্তিত্বের (সধবার) নিদর্শন।"
(মতিচুর ২১ নং পৃষ্ঠা)
রোকেয়ার উগ্রতার প্রমানে আরো একটি উক্তি হলো - কুকুরজাতি পুরুষাপেক্ষা অধিক বিশ্বাসযোগ্য। (ডেলিশিয়া-হত্যা, রোর, ১৬২)
» বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন » অবরোধ বাসিনী
![]() |
ইন্টারমেডিয়েট ২০২০-২১ সালের সাহিত্যপাঠ বইয়ের 'গৃহ' প্রবন্ধের ৬০ নাম্বার পৃষ্ঠা। |

Comments
Post a Comment